বাংলা কবিতা

একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি - বাংলা - সাহিত্যপাঠ | NCTB BOOK
2.6k

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম শাখা কাব্য। সপ্তদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে বাংলা কাব্যের সূচনা ঘটে। বাংলা সাহিত্যের সর্বাধিক সমৃদ্ধ ধারা গীতিকবিতা। উনিশ শতকের গীতিকাব্য ধারার অন্যতম কবি বিহারীলাল চক্রবর্তী। বাংলা গীতিকবিতার পূর্ণবিকাশ ঘটে রবীন্দ্রনাথের হাতে।

বাংলা কবিতার 'পঞ্চপাণ্ডব' :

বাংলা সাহিত্যে 'কল্লোল' যুগের ত্রিশের দশকের ৫ জন কবি জীবনানন্দ দাশ, বিষ্ণু দে, বুদ্ধদেব বসু, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ও অমিয় চক্রবর্তীকে একত্রে 'পঞ্চপাণ্ডব' বলা হয়। এঁরা সবাই রবীন্দ্রসাহিত্য প্রভাব বলয়ের বাইরে গিয়ে আধুনিক কবিতা রচনা করে বাংলা সাহিত্যে নিজেদের স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেছিলেন বলে এঁদেরকে 'পঞ্চপাণ্ডব' বলা হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের চেতনা, ইউরোপীয় সাহিত্যের প্রভাব এঁদের মনস্তত্ত্বে ভীষণভাবে গ্রোথিত হয়েছিল। তাঁরা বয়সে তরুণ হলেও সৃষ্টিতে ছিলেন কূলপ্লাবী; আধুনিক বাংলা সাহিত্য রচনায় প্রাজ্ঞ। তাঁরা সবাই ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র হয়েও বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার সূচনা করেছিলেন। অপরদিকে, আধুনিকতার নামে স্বেচ্ছাচারিতা ও অশ্লীলতাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে- এই অভিযোগে 'শনিবারের চিঠি' পত্রিকাকে কেন্দ্র করে কল্লোল বিরোধী আরেকটি সাহিত্য বলয় সৃষ্টি হয়। এদের নেতৃত্বে ছিলেন মোহিতলাল মজুমদার, সজনীকান্ত দাস, নীরদ চৌধুরী প্রমুখ।

Ode : Ode অর্থ গাথা বা গান বা স্তোত্র বা প্রাচীন গ্রিক কবিতা যা গ্রিক সাহিত্য হতে উদ্ভূত। প্রাচীনকালে গ্রীসে রঙ্গমঞ্চে কোরাসে বিভিন্ন সুরে নানা অঙ্গভঙ্গি দ্বারা সংগীত ও নাচের মাধ্যমে যে গান গাওয়া হতো তাকে Ode বলা হতো। বর্তমানকালে প্রশস্তিমূলক গীতিকবিতায় কোন গম্ভীর বিষয়বস্তু বা উপাদানের মাধ্যমে কবির মনের অনুভূতির ভাবমূর্তির প্রকাশকে স্তোত্র কবিতা নামে আখ্যায়িত করা হয়।

Key Notes:

  • আধুনিক যুগের বাংলা সাহিত্যের প্রথম কাব্য রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পদ্মিনী উপাখ্যান' (১৮৫৮)।
  • আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি বিহারীলাল চক্রবর্তী।
  • বাংলা কাব্যে আধুনিক যুগের প্রবর্তক মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
  • বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিদ্রোহী প্রধান কাব্য 'অগ্নিবীণা' (১৯২২)।
  • বাংলা সাহিত্যের প্রথম জীবনীকাব্য 'শ্রী চৈতন্য ভাগবত'।
  • বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম ধারা কবিতা। কবিতা দুই প্রকার। যথা:
    ১. তন্ময় কবিতা,
    ২. মন্ময় কবিতা।
  • বাংলা সাহিত্যে আধুনিক যুগের প্রথম কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
  • বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি চন্দ্রাবতী। মধ্যযুগের কবি চন্দ্রাবতী ছিলেন কিশোরগঞ্জ অঞ্চলের এবং তাঁর পিতার নাম দ্বিজ বংশীদাস।
  • আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি স্বর্ণকুমারী দেবী।
  • বাংলা কবিতার ছন্দের জাদুকর সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত।
  • বাংলা কবিতায় মুক্তক ছন্দের প্রবর্তক কাজী নজরুল ইসলাম।
  • বাংলা সাহিত্যের ছান্দসিক কবি আবদুল কাদির।
  • টি.এস এলিয়টের ইংরেজি কবিতা প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এর মাধ্যমে বাঙালি কবিদের আধুনিক কবিতার সাথে পরিচয় ঘটে।
  • বাংলা কাব্যে প্রথম প্রচুর পরিমাণ আরবি ও ফারসি শব্দ ব্যবহার করেন মোহিতলাল মজুমদার এবং পরবর্তীতে কাজী নজরুল ইসলাম।
বিখ্যাত কাব্য ও কবিতা

কবি

কাব্য

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর'কবি-কাহিনী' (১৮৭৮): প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ, যা অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত। 'বনফুল', 'কড়ি ও কোমল', 'সোনার তরী', 'চিত্রা', 'ক্ষণিকা', 'নৈবেদ্য', 'খেয়া', 'গীতাঞ্জলি', 'বলাকা', 'পূরবী', 'শেষলেখা', 'মানসী', 'চৈতালি', 'কল্পনা', 'পত্রপূট', 'সেঁজুতি', 'আকাশ প্রদীপ', 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলি', 'পুনশ্চ'।
কাজী নজরুল ইসলাম'অগ্নিবীণা' (সেপ্টেম্বর, ১৯২২): প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 'সন্ধ্যা', 'বিষের বাঁশি', 'প্রলয়শিখা', 'দোলনচাঁপা', 'সঞ্চিতা', 'মরুভাস্কর', 'চিত্তনামা', 'সিন্ধু হিন্দোল', 'চন্দ্রবিন্দু', 'ঝিঙেফুল', 'সাতভাই চম্পা', 'সর্বহারা', 'সাম্যবাদী', 'ভাঙার গান', 'ঝড়', 'ফণিমনসা', 'জিঞ্জির', 'ছায়ানট', 'পূবের হাওয়া', 'চক্রবাক'।
শহীদ কাদরী'উত্তরাধিকার', 'তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা'।
বিষ্ণু দে'উর্বশী ও আর্টেমিস', 'চোরাবালি', 'সাত ভাই চম্পা'।
দাউদ হায়দার'জন্মই আমার আজন্ম পাপ', 'নারকীয় ভুবনের কবিতা', 'আমি ভাল আছি তুমি'
নবীনচন্দ্র সেন'পলাশীর যুদ্ধ'হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়'চিন্তাতরঙ্গিণী'
সমর সেন'কয়েকটি কবিতা'রামেন্দ্রসুন্দরী ত্রিবেদী'জিজ্ঞাসা
আবদুল কাদির'দিলরুবা', 'উত্তর বসন্ত'।সুরেন্দ্রনাথ মজুমদার‘মহিলা’
দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর'স্বপ্নপ্রয়াণ'বিলহন (কাশ্মিরী কবি'চৌরপঞ্চাশিকা' (বিষয়: অবৈধ প্রণয়)

কবি

কবিতা

কবি

কবিতা

রামনিধি গুপ্তস্বদেশী ভাষাআবুল হোসেনপোস্টার
হরিশ্চন্দ্র মিত্রস্বদেশী ভাষাহুমায়ূন কবিরমেঘনায় ঢল
আবদুল কাদিরজয়যাত্রা
শেখ ফজলল করিমগায়ের ডাক, স্বর্গ ও নরক
কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারমিতব্যয়িতা, সমব্যথি
কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারপারিব না
রজনীকান্ত সেনস্বাধীনতার সুখ
রজনীকান্ত সেনএই অক্ষরে

কবি

কাব্য

কবিতা

মোহিতলাল মজুমদার'স্বপন পসারী', 'হেমন্ত গোধূলি'।বেদুঈন
গোবিন্দচন্দ্র দাস'প্রেম ও ফুল', 'মগের মুলুক'।জন্মভূমি
যতীন্দ্রমোহন বাগচী'অপরাজিতা', 'নীহারিকা', 'মহাভারতী', 'জাগরণী'।কাজলা দিদি, অন্ধবধূ
যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তে'মরীচিকা', 'মরুমায়া', 'মরুশিখা', 'সায়ম', 'ত্রিযামা'।নবান্ন, ডাক হরকরা
বন্দে আলী মিয়া'ময়নামতির চর'আমাদের গ্রাম
অক্ষয়কুমার বড়াল'প্রদীপ', 'এষা', 'শঙ্খ', 'ভুল', 'কনকাঞ্জলি'।মানব-বন্দনা
সুকুমার রায়'আবোল-তাবোল', 'হ-য-ব-র-ল', 'খাই খাই'।শ্রাবণে, ছায়াবাজি
কালিদাস রায়'পর্ণপুট', 'কিশলয়', 'বল্লরী', 'ঋতুমঙ্গল', 'রসকদম্ব'।বাবুরের মহত্ত্ব
রফিক আজাদ'অসম্ভবের পায়ে', 'চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া', 'সশস্ত্র সুন্দর'চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া
আবু হেনা মোস্তফা কামাল'আপন যৌবন বৈরী', 'যেহেতু জন্মান্ধ', 'আক্রান্ত গজল'।ছবি
মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান'দুর্লভ দিন', 'শঙ্কিত আলোকে', 'প্রতনু প্রত্যাশা'।শহীদ স্মরণে, ভূমিহীন কৃষিজীবী ইচ্ছে তার
Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

স্তবকটি পড়ে নিচের চারটি প্রশ্নের প্রাসঙ্গিক উত্তর দাও

এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে- সবচেয়ে সুন্দর করুণ:

সেখানে সবুজ ডাঙা ভ'রে আছে মধুকূপী ঘাসে অবিরল;

সেখানে গাছের নাম কাঠাল, অশ্বত্থ, বট, জারুল, হিজল;

সেখানে ভোরের মেঘে নাটার রঙের মতো জাগিছে অরুণ;

সেখানে বারুণী থাকে গঙ্গাসাগরের বুকে- সেখানে বরুণ

কর্ণফুলী ধলেশ্বরী পদ্মা জলাঙ্গীরে দেয় অবিরল জল;

সেইখানে শঙ্খচিল পানের বনের মতো হাওয়ায় চঞ্চল,

সেখানে লক্ষ্মীপেঁচা ধানের গন্ধের মতো অস্ফুট তরুণ;

সেখানে লেবুর শাখা নুয়ে থাকে অন্ধকারে ঘাসের উপর;

সুদর্শন উড়ে যায় ঘরে তার অন্ধকার সন্ধ্যার বাতাসে;

সিপাহী বিদ্রোহ
পানিপথের ৩য় যুদ্ধ
পলাশীর যুদ্ধ
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর
সোনালি অতীত
বিষাদময় রিক্ততা
শৈশবের স্মৃতি
মধুর বর্তমান

সনেট

773

সনেট ইটালিয়ান শব্দ। এর বাংলা অর্থ- চতুর্দশপদী কবিতা। একটি মাত্র ভাব বা অনুভূতি যখন ১৪ অক্ষরের চতুর্দশ পঙ্ক্তিতে (কখনো কখনো ১৮ অক্ষরও ব্যবহৃত হয়) বিশেষ ছন্দরীতিতে প্রকাশ পায়, তাকেই সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতা বলে । সনেটের দুটি অংশ। যথাঃ

ক. অষ্টক : প্রথম ৮ চরণকে অষ্টক বলে।

খ. ষটক : শেষ ৬ চরণকে ঘটক বলে।

বাংলা সাহিত্যে সনেটের প্রচলন ঘটান মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

কাব্যনাট্য
কাহিনীকাব্য
সনেট
গীতিনাট্য
ইতালী
ফ্রান্স
জার্মানী
ইংল্যান্ড
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
প্রমথ চৌধুরী
কাজী নজরুল ইসলাম
মাইকেল মধুসূদন দত্ত

অমিত্রাক্ষর ছন্দ

724

কবিতার পক্তির শেষে মিলহীন ছন্দকে অমিত্রাক্ষর ছন্দ। বলে। অমিত্রাক্ষর ছন্দের কবিতায় চরণের অন্ত্যমিল থাকে। না। এ ছন্দ পয়ারের অপর রূপ। প্রতি পঙ্ক্তিতে ১৪ অক্ষর থাকে, যা ৮+৬ পর্বে বিভক্ত। একে প্রবাহমান অক্ষরবৃত্ত ছন্দও বলে। উদাহরণ-

সম্মুখ সমরে পড়ি, বীর চূড়ামণি
বীর বাহু চলি যবে গেলা যমপুরে
অকালে, কহ, হে দেবি অমৃতভাষিণি
কোন বীরবরে রবি সেনাপতি পদে,
পাঠাইলা, রণে পুনঃ রক্ষাকুলনিধি
রাঘবারি।

- মাইকেল মধুসূদন দত্ত

বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রচলন ঘটান মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

পয়ার ছন্দ
মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
স্বরবৃত্ত ছন্দ
মুক্তক ছন্দ
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...